চুলের খুশকি রোধে কি করবেন জেনে নিন

 


আমাদের অনেক মাথায় চুলে খুশকি দেখা যায়।  বিশেষ করে শীতকালে এই সমস্যা বেড়ে যায়। শীতকালে বাতাসের আর্দ্রতা কম থাকে বা শুষ্ক থাকে। ফলে মাথার স্ক্যাল্পের চামড়া বা কোষ শুকিয়ে যায়।  এই শুকিয়ে যাওয়া স্তরকেই আমরা খুশকি হিসেবে দেখতে পাই। এছাড়া শুধু বাইরের আর্দ্রতা বলে নয়, মাথার স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা কম থাকার কারণেও খুশকি হয়। এই সমস্যা সমাধানের প্রথম উপায় বেশি বেশি পানি পান করে শুষ্ক সময়ে বা শীতকালে মাথার স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা বজায় রাখা। 

আজকাল মাথার খুশকি দূর করতে বাজারে বিভিন্ন ধরনের শ্যাম্পু ও লোশন পাওয়া গেলে এইসব জিনিসে নানা ধরনের রাসায়নিক উপাদান থাকার কারণে এবং অনেকের মাথার স্কিন সেনসিটিভ হওয়ায় তা ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়ায়। 

চুলের খুশকিকে আমরা অনেকেই গুরুত্ব দিতে চাই না। তাই কখনো কখনো খুশকি সৃষ্টি হওয়া থেকে আরো বড় বড় সমস্যা সৃষ্টি হতে পারে, যেমন চুল পড়ে যাওয়া, চুল রুক্ষ হয়ে যাওয়া এবং মাথার ত্বকে বিভিন্ন ধরনের সংক্রমণ সৃষ্ট হওয়া।

চলুন জেনে নিই চুলের খুশকি দূর করতে কি কি পদ্ধতি অবলম্বন করা যেতে পারে:

#নারিকেল তেল

নারিকেল তেল মাথার স্ক্যাল্পের আর্দ্রতা ধরে রাখে এবং খুশকির প্রকোপ কমাতে খুব-ই কার্যকর ভূমিকা পালন করে। এছাড়াও নারিকেল তেল চুলের গোড়া ময়েশ্চারাইজ করে এবং স্ক্যাল্প ইনফ্যাকশনের সম্ভাবনা কমিয়ে দেয়। সপ্তাহে দুবার চুলের গোড়ায় নারিকেল তেল মালিশ করলে ভালো-ই উপকার পাওয়া যায়। 

#পেঁয়াজের রস

পেঁয়াজ কেটে পেস্ট বানিয়ে রস আলাদা করে নিতে হবে। এরপরে ঐ রসের সাথে কিছুটা পানি মিশিয়ে মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে রেখে আধ ঘণ্টা অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে গোসল করে ফেলতে হবে। পেঁয়াজের রসে এন্টিব্যাক্টেরিয়াল, ভিটামিন-সি এবং এন্টিফাঙ্গাল উপাদান আছে যা খুশকির সমস্যা কমাতে সাহায্য করে। সপ্তাহে ১-২ বার এভাবে ব্যবহার করলে উপকার পাওয়া যায়।

#টকদই

বাজারে টকদই পাওয়া যায়। টকদই মাথার স্ক্যাল্পে লাগিয়ে ১০ মিনিট অপেক্ষা করে শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে ফেললে ভালো ফল পাওয়া যায়।

#লেবুর রস

খুশকির সমস্যায় পাতিলেবুর রস বেশ জনপ্রিয়। লেবুর রসে প্রচুর পরিমাণে সাইট্রিক এসিড এবং ভিটামিন সি থাকে যা চুলের গোড়ার খুশকি দূর করে। তবে লেবুর রস সরাসরি ব্যবহার করবেন না কারণ এর এসিটিক উপাদান আপনার চুলের ও স্ক্যাল্পের ক্ষতি করতে পারে। হেয়ার প্যাকে লেবুর রস মিশিয়ে ব্যবহার করতে পারেন কিংবা নারিকেল তেলে লেবুর রস মিশিয়ে স্ক্যাল্পে লাগাতে পারেন। মাথায় লাগয়ে ৫-৬ মিনিট ম্যাসেজ করে চুল ধুয়ে নিবেন।

#মেথি

মেথি সারারাত পানিতে ভিজিয়ে রাখবেন এবং সকালে উঠে পানি ছেঁকে ভালোভাবে বেটে নিন। ছেঁকে নেওয়া পানি আবার ফেলে দিবেন না। এরপরে বেটে নেওয়া মেথি চুলের গোড়ায় মাথার ত্বকে ভালোভাবে লাগিয়ে ঘণ্টা খানেক রেখে দিবেন। এরপরে পানি দিয়ে চুল ধুয়ে পূর্বের রেখে দেওয়া মেথির পানি দিয়ে আবারো চুল ধুয়ে নিবেন। এইভাবে সপ্তাহে ২/৩ বার মাথায় মেথি মালিশ করলে খুশকি রোধে ভালো উপকার পাবেন।

#নিম

নিমের এন্টিফাঙ্গাল উপাদান মাথার স্ক্যাল্পের খুশকির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তোলে। ১০/১৫ টা নিমপাতা নিয়ে পেস্ট তৈরি করুন। এরপরে রস আলাদা করে তাতে ২/৩ টেবিল চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে আপনার চুলের গোড়ায় ভালোভাবে লাগিয়ে দিন। এরপরে তা মাথায় ১ ঘণ্টা রেখে শ্যাম্পু করে ফেলুন।


খুশকি দূরীকরণের আরো একটি উপায় হলো অ্যালোভেরা কিংবা আমলকি। অ্যালোভেরা কিংবা আমলকির রস মাথার স্ক্যাল্পে ম্যাসাজ করলে খুশকি দূর হওয়ার পাশাপাশি চুল আরো ঘন ও স্বাস্থ্যজ্জ্বল হয়।

আজকাল অনেক পার্লারে খুশকি রোধে কয়েক ধরনের ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট দেওয়া হয়। এইসব ট্রিটমেন্টও অনেক সময় খুশকি রোধে সাহায্য করে কিন্তু অনেকের মাথার স্ক্যাল্প সেন্সিটিভ বলে এইসব ট্রিটমেন্টে সাইড এফেক্ট পড়ে। শুধুমাত্র পার্লারের ক্যামিকেল ট্রিটমেন্ট নিলে হবে না, পাশাপাশি ভালো মানের অ্যান্টি ড্যানড্রাফ শ্যাম্পু ও কন্ডিশনার ব্যবহার করতে হবে। তাছাড়াও খুশকিরোধে প্রচুর পরিমাণে পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি শীতকালীন ফলের রসও খেতে হবে বেশি বেশি। মাথার ত্বক পরিষ্কার রাখতে হবে। শ্যাম্পু শেষে যেহেতু চুল শুষ্ক হয়ে যাওয়ার প্রবণতা থাকে, তাই কন্ডিশনার বা সিরাম ব্যবহার করতে হবে। 

Post a Comment

Previous Post Next Post