নিয়মিত ডিম খেলে কি হয় জেনে নিন


 ডিম একটি সহজলভ্য পুষ্টিকর খাবার যা শরীরে পুষ্টির ঘাটতি পূরণে সাহায্য করে। ডিম হচ্ছে প্রোটিনের ভালো উৎস। ডিম স্বাস্থ্যের জন্য অনেক উপকারী হওয়া সত্ত্বেও অনেকেই ডিম খেতে চান না, যদি ওজন বেড়ে যায় কিংবা হার্টের অসুখের সম্ভাবনা বেড়ে যায় ।তবে সকালের নাস্তায় একটি করে ডিম রাখলে তা সারাদিনের কাজের চাপে আপনাকে অনেকটাই শক্তি জোগাবে এবং শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করবে। দিনে অন্তত একটি করে ডিম খাওয়ার অভ্যেস গড়ে তোলা ভালো তবে কুসুমসহ দিনে সর্বোচ্চ ২টি ডিম খাওয়া যেতে পারে। আপনি এর চেয়ে বেশি খেতে চাইলে শুধুমাত্র সাদা অংশ খাবেন কুসুম বাদ দিয়ে।

অনেকেই ডিম ভেজে খেতে চায় যার ফলে ডিমের পুষ্টিগুণ নষ্ট হয়। এজন্য ডিমের পোচ বা হাফ বয়েল খেতে পারেন। দরকার হলে ফুল বয়েল ডিমও খেতে পারেন। 

এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ১০০ গ্রাম মুরগির ডিমে ১৪৯ কিলোক্যালরি এনার্জি থাকে।  অন্যদিকে ১০০ গ্রাম হাঁসের ডিম থেকে ১৮৫ কিলোক্যালরি এনার্জি পাওয়া যায়। এছাড়া মুরগির ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিমের সাইজ এবং কুসুম বড় হয়। তুলনামূলকভাবে হাঁসের ডিমে প্রোটিন এবং ফ্যাটের পরিমাণ মুরগির ডিমের চেয়েও পরিমাণে বেশি থাকে। তাই পুষ্টির দিক দিয়ে মুরগির ডিমের চেয়ে হাঁসের ডিম বেশি উপকারি।  

ডিমের সাদা অংশে থাকে প্রোটিন এবং কুসুমে থাকে ফ্যাট,আয়রন ও ভিটামিন। শিশুর দৈহিক বৃদ্ধি ও হাড় মজবুত করতে ডিম খুবই গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। ডিমে রয়েছে ভিটামিন-ই যা কোষ আর ত্বকের ফ্রি-র‍্যাডিকেল নষ্ট করে। এছাড়া নতুন কোষ সৃষ্টি করতেও ডিম সাহায্য করে। নিয়মিত ডিম খেলে তা ক্যানসারের সম্ভাবনাকে কমিয়ে দেয়। ডিমের ভিটামিন-ডি পেশির ব্যথা কমিয়ে দেয়।

ডিম কোলেস্টেরল না বাড়িয়ে শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে। ডিমে রয়েছে ওমেগা-৩ যা শরীরে ভালো কোলেস্টেরল বা এইচডিএলের মাত্রা বাড়ায় প্রায় ১০ শতাংশ। ডিম শরীরে লোহিত রক্তকণিকা বাড়াতেও সাহায্য করে। ডিমে থাকে কোলাইন নামক উপাদান। ফলে ডিম খেলে লিভার ও স্নায়ু ভালো থাকে। ডিম হার্টে রক্ত জমাট বাধঁতে দেয়না। ফলে স্ট্রোক বা হার্ট অ্যাটাক এর সম্ভাবনা হ্রাস পায়।


সালফারের উৎকৃষ্ট উৎস হলো ডিম। সালফার নখ মজবুত ও সাদা রাখে।  আমাদের দেশে অনেক নারী ও শিশু এনিমিয়া বা রক্তাল্পতায় ভোগে। ডিমে থাকে আয়রন। শরীরে পর্যাপ্ত আয়রন থাকলে রক্তাল্পতার সমস্যা হয়না। তাই নিয়মিত ডিম খেলে এই সমস্যা লাঘব হয়। গর্ভাবস্থায় নিয়মিত ডিম খেলে তা বাচ্চার শরীরের গঠনে সহায়তা করে। 

ডিমের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা হলো ডিম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়। ডিমে রয়েছে ফসফরাস যা হাড় ও দাঁত মজবুত রাখে।

আপনি যদি স্থুলতায় ভোগেন, তাহলে ডিম আপনার শরীরের ওজন কমাতে সাহায্য করবে। ব্রেকফাস্টে রোজ একটি ডিম খাওয়া মানে আপনার সারাদিন অতো খিদেও পাবে না এবং খাওয়াও হবে না। ফলে ওজন সাম্যাবস্থায় থাকবে। ডিমে রয়েছে আয়রন, ফসফরাস, জিংক। মেয়েদের পিরিয়ডের সময় রক্তশূন্যতায় ডিমে থাকা আয়রন শরীরে রক্তকণিকার উৎপাদন বাড়ায়। এছাড়া জিংক শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায় এবং ফসফরাস হাড় ও দাঁত মজবুত করে।

যাই হোক ডিমের এত এত পুষ্টিগুণ থাকার পরেও অতিরিক্ত ডিম খেলে তা উপকারের বদলে অপকার ই বয়ে আনে। প্রতিদিন অতিরিক্ত ডিম খেলে তা শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রাকে মারাত্মকভাবে বাড়িয়ে দেয়। অতিরিক্ত ডিম খেলে শরীরে আর্থ্রাইটিসের সম্ভাবনাও বাড়িয়ে দেয়। তাই দৈনিক চাহিদার তুলনায় যেকোনো কিছু বেশি গ্রহণ না করাই ভালো যতো -ই পুষ্টিকর হোক না কেন।

Post a Comment

Previous Post Next Post