নিয়মিত বাদাম খেলে শরীরের কি কি উপকার হয় জেনে নিন এক নজরে


 বাদাম একটি সহজলভ্য পুষ্টিকর খাবার এবং পুষ্টি ও শারীরিক উপকারিতার দিক দিয়ে এর কোনো বিকল্প নেই। যেখানেসেখানেই মিলে বাদামের সন্ধান। হরেক রকমের বাদাম রয়েছে, যেমন চিনাবাদাম, কাজুবাদাম, পোস্তবাদাম, আখরোট প্রভৃতি। তবে এর মধ্যে চিনাবাদাম-ই সবচেয়ে সহজলভ্য এবং দামেও সস্তা। চিনাবাদাম ভেজেও খাওয়া যায় এবং কাঁচা ভিজিয়ে রেখেও খাওয়া যায়। অনেকেই সকালে এক মুঠো পানিতে ভেজানো কাঁচা বাদাম খেয়ে থাকে। নিয়মিত কাঁচা বাদাম খেলে শরীরে নানা পুষ্টি উপাদান প্রবেশ করে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়, হাড়ের জোর বাড়ায়। পাশাপাশি মস্তিষ্কের ক্ষমতাও বাড়ে। কিন্তু তাই বলে কি ভাজা বাদামে কোনো উপকারিতা নেই? অবশ্যই আছে। ভাজা বাদামে থাকে কোলেস্টেরল।  সঙ্গে থাকে প্রোটিন এবং ফাইবার। তাই নিয়মিত ভাজা বাদাম খেলে আপনার বদহজমের সমস্যা দূর হবে। রক্তে শর্করার মাত্রা ও রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকবে। ভাজা বাদাম দাঁতের ক্ষয় কমাতেও সাহায্য করে। ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণে বাদাম ভালো ভূমিকা রাখে। কোষে ক্যালসিয়াম শোষণ এবং ব্লাডসুগার কমাতে সাহায্য করে।


পেট ভরানোর জন্য চিনাবাদামের কোনো বিকল্প নেই। তবে যাদের এলার্জি আছে, তাদের চিনাবাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। ১০০ গ্রাম বাদামে আছে কার্বোহাইড্রেট ৬০ গ্রাম, প্রোটিন ৫৩.৩ গ্রাম, খাদ্যশক্তি ৫৬৬ কিলোক্যালরি,  ক্যালসিয়াম ৯০ মিলিগ্রাম, আয়রন ৩৫০ মিলিগ্রাম। এছাড়াও আছে ক্যারোটিন, ভিটামিন বি-১, ভিটামিন বি-২। চিনা বাদামের ভিটামিন ই এবং ক্যারোটিন ত্বক ও চুলের সৌন্দর্য বজায় রাখে। বাদামের এন্টি অক্সিডেন্ট ক্যান্সার রোগকে প্রতিরোধ করার পাশাপাশি শরীরের ইমিউন সিস্টেমকে অনেকাংশে বাড়িয়ে তোলে। বাদাম রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণেও ভূমিকা রাখে এবং শরীরে গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণ করে।

বাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ক্যালরি। তাই খেলাধুলা করতে যাওয়ার আগে বাদাম খেলে শরীরে ভালো ই এনার্জি পাওয়া যায়। বাদাম হার্ট ভালো রাখে। বাদামে প্রোটিন ভরপুর থাকে যা শরীরে দেহকোষের সংখ্যা বাড়াতে সাহায্য করে। 

প্রতিদিন বাদাম খাওয়ারও নির্দিষ্ট নিয়ম আছে। বাদামে ফ্যাট থাকায় আপনার সারাদিনের খাওয়ার তালিকায় কি পরিমাণে ফ্যাট থাকে তা বুঝেই দৈনিক বাদাম খাওয়ার পরিমাণ নির্ধারণ করতে হবে। 

চিনাবাদাম ছাড়াও আরো রয়েছে কাজুবাদাম, পেস্তাবাদাম, কাঠবাদাম, আখরোট। এখন এদের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।

#কাজুবাদাম

কাজু বাদাম বেশ সুস্বাদু ও মুখরোচক।  কাজুবাদামে রয়েছে আয়রন, পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম এবং ভিটামিন এ। ফলে এনিমিয়া বা রক্তাল্পতা ভালো হয়। কাজুবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম, যা শক্ত হাড়ের জন্য এবং মাংসপেশি ও স্নায়ুর কাজ সঠিকভাবে পরিচালনা করতে সাহায্য করে। কাজুবাদামে আরো রয়েছে সেলেনিয়াম এবং ভিটামিন 'ই' যা ক্যান্সারের ঝুঁকি কমায় এবং রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে। কাজুবাদামের একটি উপাদান জিংক যা ইনফেকশনের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলে। কাজুবাদামে উচ্চমাত্রার ক্যালরি থাকে, তাই দৈনিক ৭/৮ টার বেশি খাওয়া অনুচিত। যাদের এলার্জি এবং মাইগ্রেনের সমস্যা আছে,  তাদের কাজুবাদাম খাওয়া থেকে বিরত থাকা উচিত। 

#কাঠবাদাম

কাঠবাদামে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামিন 'বি', 'ই', 'ডি' এবং উপকারী ফ্যাট। ভিটামিন 'বি' মস্তিষ্কের কোষগুলোকে উন্নত করতে এবং স্মৃতিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে। কাঠবাদামে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম ও ভিটামিন ডি যা চুলপড়া রোধ করে এবং মাথার ত্বক উন্নত করে। কাজুবাদামের মতো কাঠবাদামও ম্যাগনেসিয়ামের একটি ভালো উৎস। শরীরের রোগ প্রতিরোধ বাড়িয়ে তুলতেও কাঠবাদামের ভূমিকা রয়েছে। 

#পেস্তাবাদাম

 পেস্তাবাদামে রয়েছে ফসফরাস, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, কপার ও ম্যাগনেসিয়াম। যা রক্ত শুদ্ধ করার পাশাপাশি লিভার ও কিডনি ভালো রাখে। এছাড়াও রয়েছে যথেষ্ট পরিমাণে ক্যালরি ও ফ্যাট। 

#আখরোট

আখরোট আমাদের দেহের হাড় শক্ত করে এবং মস্তিষ্কে পুষ্টি জোগায়। কারণ এতে রয়েছে ক্যালসিয়াম,  আয়রন, পটাসিয়াম, সোডিয়াম, ওমেগা-৩, ফ্যাটি এসিড এবং ভিটামিন। এছাড়াও আখরোটে ফ্যাটের পরিমাণ ৬৫ শতাংশ এবং প্রোটিনের পরিমাণ ১৫ শতাংশ। আখরোট হার্টের জন্যও যথেষ্ট পরিমাণে ভালো। নিয়মিত আখরোট খেলে ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার সম্ভাবনা কমে যায়। তবে দৈনিক চারটার বেশি খাওয়া অনুচিত।

তাই বলা যায়, শরীর সুস্থ ও ফিট রাখতে নিয়মিত বাদাম খাওয়ার অভ্যেস গড়ে তুলুন। 

Post a Comment

Previous Post Next Post