ডালিম খেলে কি শরীরে রক্ত বাড়ে !! জেনে নিন ডালিমের যতো পুষ্টিগুণ

ডালিম বা বেদানা মোটামুটি ছোট বড় সকলের ই পছন্দের ফল। ডালিমের রয়েছে আকর্ষণীয় রং ও স্বাদসহ অনেক পুষ্টি উপাদান ও স্বাস্থ্য উপকারিতা। ডালিমের উপকারিতা অনেক। বিশেষ করে যারা রক্তাল্পতায় ভুগছেন তাদের শরীরে রক্তকণিকা বৃদ্ধিতে ডালিমের ভূমিকা অপরিসীম।

#রক্তে ডালিমের যতো ভূমিকা

ডালিমে রয়েছে আয়রন, ক্যালসিয়াম, শর্করা ও আঁশ ( ফাইবার )  যা রক্তে হিমোগ্লোবিন বৃদ্ধি করে শরীরে রক্ত চলাচল স্বাভাবিক রাখে। ডালিম রক্তে লোহিত রক্তকণিকা ও অণুচক্রিকা বাড়িয়ে দেয়। ফলে দেহে রক্তের ঘাটতি হলে ডালিম খেলে শরীরে রক্তের উৎপাদন বাড়ে। ডালিমের রসে 'পিউসিনিক এসিড' নামক এক প্রকার উপাদান রয়েছে যা উচ্চ রক্তচাপে ভোগা রোগীদের রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। ডালিমে রয়েছে গুরুত্বপূর্ণ এন্টি-অক্সিডেন্ট যা রক্তের তারল্য ঠিক রেখে এর ঘনত্ব স্বাভাবিক রাখে এবং শরীরের অভ্যন্তরে কোথাও রক্ত জমাট বাঁধতে বাধা দেয়। এছাড়া ডালিমের রস শরীরের রক্তে অক্সিজেনের অনুপাতও স্বাভাবিক রাখে।

শুধুমাত্র শরীরে রক্তের উৎপাদন বৃদ্ধি ছাড়াও ডালিমের আরো অনেক অবদান আছে।

#রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ানো

ডালিমে প্রচুর পটাসিয়াম ও ভিটামিন 'সি' পাওয়া যায় যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে বাড়িয়ে তোলে। ডালিমের পুষ্টিগুণ হিসেবে আমরা এক কাপ ডালিম দানা হতে আমাদের দৈনন্দিন চাহিদার ৩০ শতাংশ ভিটামিন সি, ৩৬ শতাংশ ভিটামিন কে, ১৬ শতাংশ ভিটামিন বি৯ ও ১২ শতাংশ পটাসিয়াম পেয়ে থাকি। ডালিমের ভিটামিন-সি শরীরের এন্টিবডি বাড়িয়ে তোলে। ডালিমের রস অন্য ফলের মতো শরীরে চিনির পরিমাণ বৃদ্ধি করে না। ডালিম ভাইরাসের সংক্রমণ রোধ করে দেহকোষ সুস্থ রাখতে সাহায্য করে। বিভিন্ন ফাংগাসের বিরুদ্ধেও ডালিম প্রতিরোধ গড়ে তোলে। এছাড়া পেটের অসুখ ও জ্বর সাড়াতেও এর জুড়ি মেলাভার। 

#হজমশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে

ডালিমের আঁশ হজমে সহায়তা করে। একটি ডালিম দানায় ৪৫ শতাংশ আঁশ থাকে। ডালিমে রয়েছে দ্রবণীয় এবং অদ্রবণীয় আঁশ যা হজমে সহায়তা করার পাশাপাশি শরীরে অন্ত্রের নাড়াচাড়াও নিয়ন্ত্রণ করে।

#ক্যান্সার ও হার্টের অসুখের ঝুঁকি কমাতে

 ডালিমের রস ক্যান্সার কোষের বৃদ্ধি প্রতিহত করে 'প্রস্টেট ক্যান্সার' প্রতিরোধে সহায়তা করে। ডালিম শরীরে কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে রক্তচলাচল বাড়িয়ে তোলে ফলে হার্ট ফেইলিউরের সম্ভাবনা কমে যায়।  

#অন্যান্য গুণ

এছাড়াও ডালিম আমাদের মস্তিষ্কের স্মৃতিশক্তি বাড়িয়ে তোলে। আমাদের শরীর গ্লুকোজ লেভেল নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে শরীরে প্রাকৃতিক ইনস্যুলিন হিসেবে কাজ করে। আথ্রাইটিস রোগীদের ক্ষেত্রে ডালিম হাড়ের সংযোগস্থলের ব্যথা উপশপ করে।  ডালিম তরুণাস্থির ক্ষয় রোধ করিয়ে হাড়ের সুস্থতা বজায় রাখতে সাহায্য করে। ডালিম উচ্চ এন্টি-অক্সিডেন্টসমৃদ্ধ হওয়ায় ত্বকে বয়সের ছাপ পড়তে বাধা দেয়।

তাই বলা যায়, শারীরিক কার্যক্ষমতা বৃদ্ধি করে সুস্থ থাকার জন্য আমাদের নিয়মিত ডালিম খাওয়ার অভ্যাস গড়ে তোলা প্রয়োজন।


Post a Comment

Previous Post Next Post