গরুর মাংস আমরা প্রায়ই খেয়ে থাকি। বিয়েবাড়ি থেকে শুরু করে বাসাবাড়ির বিভিন্ন অনুষ্ঠানে গরুর মাংস থাকে ফেভারিট মেন্যু হিসেবে। ঈদুল আজহায় গরু কোরবানি হয় এবং গরুর মাংস দিয়ে তৈরি হয় সুস্বাদু খাবার। অনেকেই গরুর মাংস খেতে চায় না। আসলেই কি গরুর মাংস খাওয়া অনিরাপদ!? জেনে রাখা ভালো যে গরুর মাংসে আছে শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় নয়টি পুষ্টি উপাদান। সেগুলো হলো : প্রোটিন, জিংক, ভিটামিন, বি১২, সেলেনিয়াম, আয়রন, রিবোফ্লেভিন, ফসফরাস, নায়াসিন এবং ভিটামিন বি৬। গরুর মাংস প্রোটিন এবং খনিজের ভালো উৎস। মাংস ছাড়াও হাড়, কলিজা, মগজ প্রভৃতি থেকে পাওয়া যায় এমাইনো এসিড যা শরীরের গঠনে ভূমিকা রাখে। প্রতি ১০০ গ্রাম গরুর মাংস খেলে আপনি পাবেন ২২.৬ গ্রাম প্রোটিন, ৪৯৮-৫১৫ কিলোক্যালরি শক্তি, ২.৬ গ্রাম ফ্যাট। গরুর মাংসে প্রচুর আয়রন থাকে। যেসব রোগী রক্তস্বল্পতায় ভুগছেন, তাদের জন্য গরুর মাংস বেশ উপকারী। এক সপ্তাহ টানা গরুর মাংস খেলে তাদের রক্তস্বল্পতা অনেকাংশে কমে যায়। এছাড়া গরুর মাংসে ক্যালসিয়াম ও ফসফরাস যথেষ্ট পরিমাণে থাকায় এটি হাড়ের জন্য বেশ উপকারী। গরুর মাংসে যথেষ্ট ভিটামিন বি১২ রয়েছে যা নার্ভার সিস্টেমকে সহায়তা করে এবং ভিটামিন বি৬ ব্লাড ফরমেশনে সহায়তা করে। দৈনিক গরু মাংস খাওয়ার আদর্শ মাত্রা হলো ৩ আউন্স বা ৮৫ গ্রাম, ৩/৪ টুকরো মাংসতে আপনি ৮৫ গ্রাম মাংস পাবেন। তবে দৈনিক না খেয়ে সপ্তাহে ২/১ দিন মেন্যুতে গরুর মাংস রাখাটাই আদর্শ হতে পারে কারণ একবারে ৩/৪ টুকরোর চেয়ে বেশি খাওয়া হয়ে যেতে পারে।
গরুর মাংস খেলেই যে শক্তি বাড়বে এমন না অতিরিক্ত গরুর মাংসের ভোজন হিতে বিপরীত ফল বয়ে আনতে পারে। অনেকে অতিরিক্ত গরুর মাংস আহার করে ফেলে যার কারণে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের ঝুঁকি বাড়ে। গরুর মাংসের সাথে যদি বিভিন্ন সবজি মিশিয়ে খাওয়া যায়, তাহলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্যের ঝুঁকি কমে যায়। এছাড়া অতিরিক্ত গরুর মাংসে কোলন ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ে, যেমন পাইলসের মতো অসুখের সৃষ্টি হতে পারে। অতিরিক্ত গরুর মাংস খাওয়া মোটেও উপকারী নয়। আমরা অনেকেই কোরবানির সময় অতিরিক্ত গরুর মাংস আহার করে থাকি। এই ক্ষেত্রে আমাদের খেয়াল রাখা দরকার। অতিরিক্ত গরুর মাংস হার্টের রোগ ও স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়ায়। অতিরিক্ত গরুর মাংস থেকে উচ্চ রক্তচাপ হতে পারে। কারণ গরুর মাংসে থাকে সোডিয়াম আর সোডিয়াম রক্তচাপ বাড়াতে সাহায্য করে। এছাড়া গরুর মাংসে ফ্যাট, হাই কোলেস্টেরল বেশি থাকায় হার্টের অসুখের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দেয়। তাই যারা সুস্থ সবল ব্যক্তি তারা সপ্তাহে ২/১ দিন মেন্যুতে গরুর মাংস রাখতেই পারেন। এছাড়া যাদের কিডনি সমস্যা, হাইপারটেনশন, হার্টের অসুখ বিদ্যমান, তারা যতো সম্ভব গরুর মাংস এড়িয়ে চলবেন।
ধন্যবাদ
%20-%202023-07-02T145954.034.jpeg)