পেয়ারার যতো পুষ্টিগুণ ও উপকারিতা


বর্তমানে সারা বছর-ই কমবেশি পেয়ারা পাওয়া যায়। এটি একটি ফাইবার জাতীয় ফল। পেয়ারার রয়েছে অনেক পুষ্টিগুণ। ফাইবার জাতীয় ফল হওয়ায় পেয়ারা খেলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয় আর তাই কারো ঠিকমতো পায়খানা না হলে পেয়ারা খেয়েই করতে পারেন অনেক সমস্যার সমাধান। বিশেষজ্ঞদের মতে একটি পেয়ারায় ৪টি কমলালেবুর সমান ভিটামিন সি রয়েছে। এছাড়াও এতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পানি, ভিটামিন এ ( যা দৃষ্টিশক্তি বাড়াতে সাহায্য করে ),  ভিটামিন বি, কে, পটাশিয়াম, ক্যালসিয়াম,  প্রোটিন ও খনিজ পদার্থ। সাধারণত পেয়ারা হতে ভিটামিন এ সরাসরি পাওয়া যায়না। এটি প্রথমে ক্যারোটিনরূপে থাকে এবং পরবর্তী সময়ে তা ভিটামিন এ-তে রূপান্তরিত হয়। ক্যারোটিন শরীরের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ঘটায়। প্রতি ১০০ গ্রাম পেয়ারা হতে ৭৬ কিলোক্যালরি খাদ্যশক্তি, ১.৪ গ্রাম প্রোটিন, ১.১ গ্রাম স্নেহ ও ১৫.২ গ্রাম কার্বোহাইড্রেট পাওয়া যায়।  এছাড়া পেয়ারায় থাকে বিভিন্ন খনিজ উপাদান।

# ডায়াবেটিস রোগীদের ক্ষেত্রে পেয়ারা খুব ভালো উপকার করে। পেয়ারায় যে আঁশ থাকে,  তা শরীরে চিনি শোষণ কমাতে পারে। তাই নিয়মিত পেয়ারা খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি কমে। 

# ঠান্ডাজনিত সমস্যা

শ্বাসকষ্ট, ঠান্ডা লাগা, সর্দি-কাশি এইসব এর প্রতি পেয়ারা ভালো প্রতিরোধ গড়ে তোলে। পেয়ারায় আয়রন এবং ভিটামিন সি থাকাতে তা শ্লেষ্মা কমাতে সাহায্য করে।



# ত্বক ও চুলের পরিচর্যায়

পেয়ারায় প্রচুর পরিমাণে পানি থাকায় তা ত্বক ও চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে সাহায্য করে। ত্বকের রুক্ষ ভাব দূর করে ও শীতে পা ফাটা রোধ করে। 

#পেটের সমস্যা

ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ বা পেটের গোলযোগ হলে পেয়ারা অনেক কার্যকরী ফল দেয়। পেয়ারার রস কোষ্ঠ্যকাঠিন্য, আমাশয়সহ পেটের অসুখ সারাতে সাহায্য করে। এছসড়া পেয়ারা ওজন কমাতেও ভূমিকা রাখে। 

# উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ

নিয়মিত পেয়ারা খেলে রক্তচাপ ও রক্তের লিপিড কমে আসে। পেয়ারাতে পটাশিয়াম থাকে যা রক্তচাপ কমাতে সাহায্য করে। গোলাপি পেয়ারা নিয়মিত খেলে কার্ডিওভাস্কুলার রোগের ঝুঁকি অনেকাংশে কমে আসে।

# রোগ প্রতিরোধ

পেয়ারাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে ভিটামন-সি এবং অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট, যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে।  দেহের কোথাও কেটে গেলে ক্ষতস্থান শুকানোর জন্য এই অ্যান্টি-অক্সিডেন্ট গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এছাড়া প্রোস্টেট ও স্তন ক্যানসার প্রতিরোধেও পেয়ারা খুবই উপকারী। 


Post a Comment

Previous Post Next Post